ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর মধ্যে পার্থক্য কী ?

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর মধ্যে পার্থক্যঃ ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং এমন দুটি শব্দ যা প্রায়শই একই অর্থ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তবে এই দুটি শব্দের অর্থ এবং কাজের দিক থেকে দুটি বিপরীত অবস্থান রয়েছে। অনেকে এই দুটি শব্দ একটিকে অপরটির প্রতিশব্দ হিসাবে ব্যবহার করেন কারণ তারা এই দুটি শব্দের অর্থ জানেন না। আসুন এই দুটি শব্দের মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কে কিছু জেনে নেওয়া যাক।

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর পার্থক্য

এছাড়াও আপনার ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং সম্পর্কে আরো বিস্তারিত দেখতে পারবেন আমাদের এই ব্লগ এ শিক্ষা নিউজ ক্যাটাগরিতে । এবং প্রতিদিনের আপডেট চাকরির খবর দেখতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর ৮ টি পার্থক্য

পার্থক্যের ভিত্তিআউটসোর্সিংফ্রিল্যান্সিং
১. ব্যুৎপত্তি‘আউটসোর্সিং’ (Outsourcing) শব্দটি ‘আউট’ (Out) এবং ‘উৎস’ শব্দ থেকে উদ্ভূত। সুতরাং, ‘আউটসোর্সিং’ (Outsourcing) অর্থ ‘বাইরে থেকে কোনো উৎস’ পাওয়া’।‘ফ্রিল্যান্সিং’ (Freelancing) শব্দটি ‘ফ্রি’ (Free) এবং ‘ল্যান্স’ (Lance) শব্দ থেকে উদ্ভূত। ‘ফ্রি’ (Free) অর্থ ‘স্বতন্ত্র’ এবং ‘ল্যান্স’ (Lance) অর্থ ‘যন্ত্রপাতি’। সুতরাং ‘ফ্রিল্যান্সিং’ (Freelancing) এর অর্থ ‘স্বতন্ত্রভাবে কাজ করা’।
২. সংজ্ঞাআউটসোর্সিং (Outsourcing) হলো একজন ফ্রিল্যান্সার দ্বারা তাকে চাকরি তে নিযুক্ত করা ব্যতিতই বেতন দিয়ে কোনো কাজ করানো।কোনও বাধ্যবাধকতা ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করে উপার্জন করাকেই ফিল্যান্সিং বলে ।
৩. সম্পর্কএকজন আউটসোর্স ঠিকাদার ফ্রিল্যান্সারকে কাজ এবং অর্থ প্রদান করেন।একজন ফ্রিল্যান্সার কোনো একটি টাস্ক গ্রহণ করেন এবং বাইরের উৎস (আউটসোর্স ঠিকাদার) কর্তৃক তাকে টাস্কের অর্থ প্রদান করা হয়।
৪. ফাংশনএকজন আউটসোর্স ঠিকাদার কাউকে নিয়োগ না করে কেবল তার কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে নিজের সম্পদের ব্যবহারের সর্বাধিকতা বাড়ানোর জন্য টাস্ক সম্পন্ন করিয়ে নেন। আউটসোর্স ঠিকাদার সংস্থা এবং ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসাবেও কাজ করতে পারেনএকজন ফ্রিল্যান্সার একজন স্বতন্ত্র শ্রমিক হিসাবে কাজ করেন। কোনও কাজ করতেই হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা তার নেই। তিনি যখনই চান তখনই কাজটি করতে পারেন। যদি তিনি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সমাপ্ত করে জমা দেন তবে তিনি বেতন পাবেন অন্যথা তাকে কোনো অর্থ প্রদান করা হবে না।
৫.পারিশ্রমিকএকজন আউটসোর্স ঠিকাদার ফ্রিল্যান্সারদের তাদের কাজগুলি অনুযায়ী অর্থ প্রদান করেনা। তাকে তার এই কাজটি করা ব্যক্তিকে কোনও বেতন দেওয়ার প্রয়োজন নেই।একজন ফ্রিল্যান্সার কে তার কাজ অনুযায়ী অর্থ প্রদান করা হয়। তিনি পেমেন্ট/পারিশ্রমিক পান কিন্তু বেতন পান না।
৬. উদাহরণ“শাওন সাহা” এই ক্ষেত্রে একজন আউটসোর্স ঠিকাদার। তিনি একটি সংস্থার কর্মচারী। সংস্থাটির ওয়েবসাইটের জন্য কিছু নিবন্ধ প্রয়োজন। দক্ষতার সাথে লিখতে পারেন এমন কোনও কর্মচারী নেই। সুতরাং, পূর্ণ-সময়ের জন্য একজন কর্মী নিয়োগের পরিবর্তে সংস্থাটি কাজ করার জন্য একজন ফ্রিল্যান্সার নিয়োগ করে। সুতরাং, এই আউটসোর্সিং সংস্থাটির জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণের অর্থ সঞ্চয় করে।“অর্ণব সাহা” একজন ফ্রিল্যান্স লেখক। একটি কাজের জন্য তিনি “শাওনের” থেকে একটি প্রস্তাব পান। “শাওন” তাকে প্রতিটিতে কমপক্ষে ১০০০ শব্দযুক্ত তিনটি নিবন্ধ লেখার জন্য তিনটি বিষয় দিলেন। “শাওন” প্রতি নিবন্ধে অর্ণবকে ২০ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এখন, অর্ণব চাকরি নেওয়া বা ছেড়ে দেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে, আর একেই মূলত ফ্রিল্যান্সিং বলা হয়।
৭. সুবিধাদি১) আউটসোর্সিং (Outsourcing)এর মাধ্যমে, আপনি সর্বনিম্ন পরিমাণ সংস্থান এবং অর্থ ব্যয় করে কাজটি করতে পারেন।

২) আপনার অতিরিক্ত অফিসের জায়গার দরকার নেই এবং শ্রমিকের কাছে আপনার দায়বদ্ধ থাকারও কোনো প্রশ্ন নেই।
১) আপনার অবশ্যই বাধ্যবাধকতা নেই যে কোনো একটি নির্দিষ্ট কাজ আপনাকে করতেই হবে।

২) এমন কোনো নিয়ম নেই যে আপনাকে অবশ্যই সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা বা সকাল ১০ টা এবং সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে কাজটি শেষ করতে হবে। আপনি যখনই চান কাজটি করতে পারেন।

৩) কেউ আপনার উপর কর্তৃত্ব জারি করতে পারবেন না। আপনি ই আপনার নিজের কর্তা হবেন।

৪) ফ্রিল্যান্সিংয়ে সবকিছুই নমনীয়। আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা আছে।
৮. অসুবিধা সমূহ১) কাজটি আপনি সম্পন্ন করাতে পারবেন এমন কোনও গ্যারান্টি নেই। একজন ফ্রিল্যান্সার (Freelancer) সর্বদা কাজটি করতে অস্বীকার করতে পারে।

২) আপনি প্রতিবার আউটসোর্সিং (Outsourcing) করে মানসম্পন্ন কাজ পাবেন না।

৩) কাজটি শেষ হতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় নিতে পারে।
১) সবসময় ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) এ পারিশ্রমিক না পাওয়ার একটি ঝুঁকি থেকেই যায়। এমন কোনো গ্যারান্টি নেই যে আপনাকে অর্থ প্রদান করাই হবে বা আপনাকে কোনো একটি কাজ দেওয়াই হবে।

২) ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) এর কাজ সবসময় পাওয়া যায় না। আপনি যে কাজটি করতে চান তা আপনি সর্বদা খুঁজে না-ও পেতে পারেন।

৩) ফ্রিল্যান্সিংয়ে কোনও নির্দিষ্ট আয় নেই। আপনি এক মাসে ১ লাখ থেকে ১০ হাজার যেকোনো পরিমাণের উপার্জন করতে পারেন। এটি আপনি কতটা কাজ পেতে পারেন, করতে পারেন বা করতে চান তার উপর নির্ভর করে।

Outsourcing & Freelancing Difference and Comparison

শেষ কথাঃ তাহলে নিশ্চয় আপনি বুঝে গেছেন ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং-এর মধ্যেকার পার্থক্যগুলো। যেহেতু এখনকার সময়ে ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং দুটোই অর্থ উপার্জনের দুটো জনপ্রিয় পন্থা তাই এ দুই বিষয়ে সকলের সঠিক ধারণা থাকা উচিত। আশা করছি এই আলোচনা থেকে আপনারা ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং এর পার্থক্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাবেন এবং নিজেদের জন্য এর মধ্যে থেকে সঠিক পথটি বেছে নিতে সক্ষম হবেন।

এছাড়াও দেখতে পারেন

About ApplyForJob

Check Also

প্রাথমিক শিক্ষক পদে নির্বাচিতদের কাগজপত্র জমাদান প্রসঙ্গে

প্রাথমিক শিক্ষক পদে নির্বাচিতদের কাগজপত্র জমাদান প্রসঙ্গে

প্রাথমিক শিক্ষক পদে নির্বাচিতদের কাগজপত্র জমাদান ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষক পদে নির্বাচিতদের …