৯ম শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর – বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

৯ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট

৯ম শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর । মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অ্যাসাইনমেন্ট ২০২১ ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত ১ম নির্ধারিত কাজ (Assignment) (১ম সপ্তাহের জন্য)। নতুন করে সকল শ্রেণির পুনর্বিন্যাস করা পাঠ্যসূচির আলোকে অ্যাসাইনমেন্ট ও মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এই কার্যক্রম আগামী ২০ মার্চ থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর করতে হবে । ইতিমধ্যে আ্যাসাইনমেন্ট এর কাজ শুরু হয়ে গেছে ।

Class 9 BGS Assignment Answer

তাই সকল শ্রেণির এসাইনমেন্ট এবং সমাধান নিয়ে আমরা আপনাদের সাথেই আছি applyforjobs24.com এখানে ‍Shikha News ক্যাটাগরিতে  আপনারা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অ্যাসাইনমেন্ট ২০২১ইং – ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত সকল বিষয়ের সমাধান পাবেন( প্রতি সপ্তাহের ) খুব সহজেই সবার আগে সংগ্রহ করতে পারবেন । নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন ও উত্তর সংগ্রহ। নিচে দেখুনঃ

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট 

Assignment Bangladesh Global Studies Answer Class-9

নির্ধারিত কাজঃ 

প্রশ্নঃ ১৯৫২,১৯৬৬,১৯৭০ সাল বাংলাদেশের ইতিহাস বিনির্মানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন কিছু সময় । এর মাঝে কোন সালের ঘটানাপ্রবাহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অধিকতর প্রেরণা যুগিয়েছিলেন বলে তুমি মনে কর ? যুক্তিসহ তোমার মতামত তুলে ধর ।

৯ম শ্রেণির BGS অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

উত্তরঃ ১৯৫২,১৯৬৬,১৯৭০ সাল এর মাঝে যে সালের ঘটানাপ্রবাহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অধিকতর প্রেরণা যুগিয়েছিলেন, নিম্নে আমার মতামত প্রেরণ করা হলোঃ

১৯৭০ সালের নির্বাচনঃ সত্তরের নির্বাচন ও একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন বাঙালির জাতিসত্তার প্রেক্ষাপটে জাগরণের শক্তি হিসেবে উদ্ভাসিত হয়ে আছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দুই আন্দোলনে মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালির আত্মজাগরণের জায়গা নির্ধারণ করেছিলেন। এই দুটো জায়গায় নিজের ভূমিকাকে আত্মপ্রত্যয়ী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে বাঙালির মানসপটে বিপুলভাবে আত্মজাগরণের দরজা খুলে দেন । বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করে। শুরু হয় স্বাধীনতার স্বপ্নে নিরন্তর যাত্রার দুঃসাহসী ভূমিকা। সত্তরের নির্বাচন ও অসহযোগ আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমান বিপুল সাহসী চৈতন্যে ঐক্যবদ্ধ বাঙালির তোরণ উন্মোচন করেন। বিশ্বজুড়ে বাঙালির জাগরণ এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞা বিপুল সাহসী প্রত্যয় বিশ্বের মানচিত্রে প্রলয় ঘটায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতার আসনে আসীন করে বাঙালি নিজের জাতিসত্তার বিকাশ ঘটায়। পৃথিবীর মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ ।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট উত্তপত্র -১ সপ্তাহ

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দ্লেনঃ ১৯৪৭ সালে ইংরেজরা ভারতবর্ষ ছেড়ে চলে গেলেও ভারতবর্ষকে দ্বি-খন্ডিত করে যায় একদিকে পাকিস্তান অপরদিকে ভারত। পাকিস্তানের আবার দু‘ভাগ হয়, পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান। পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল বেশী এবং তাদের মুখের ভাষা ছিল বাংলা। অপরদিকে পশ্চিম পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল তুলনামুলকভাবে কম এবং তাদের ভাষা ছিল উর্দু। তা‘সত্ত্বেও পাকিস্তানের জনক নামে খ্যাত মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ নিজে ঢাকায় বাংলা ভাষার ওপর আক্রমন পরিচালনা করেন। তিনি ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দেয়ার পূর্বে ঘোষণা করেন যে,“উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।” তার কথার উত্তরে ঘটনাস্থলেই দু’জন ছাত্র বলেছিলেন, “না, না, না।” তার এই কথার বিরুদ্বে পূর্ব পাকিস্তানের আপামর জনগণ রুখে দাঁড়ায়। তারা মাতৃভাষার স্বাধীনতা চায়। আর সে থেকেই পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে মাতৃভাষা নিয়ে দাঙ্গা শুরু হয়।

পশ্চিম পাকিস্তানের সরকার পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের নানাভাবে ঠকাতো। পূর্ব পাকিস্তানে পাট জন্মাতো। অথচ সস্থায় এখান থেকে পাট কিনে নিয়ে তারা নিজ এলাকায় জুট মিল বানিয়ে সেখানে পাটের জিনিস তৈরি করে পূর্ব পাকিস্তানে চড়া দামে বিক্রি করতো। এরূপ আরো উদাহরণ আছে। তবে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ মাতৃভাষার স্বাধীনতার জন্যই তাদের বিরুদ্ধে প্রথম লড়ে। ১৯৫২ সালের কথা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা মাতৃভাষার স্বাধীনতার জন্য আন্দোলনের ডাক দেয়। পশ্চিমা সরকার পাকিস্তানী মিলিটারীদের বলে দেয়, রাস্তায় ১৪৪ ধারা জারী করতে। মিছিলের লোক দেখলেই যেন তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এই ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাস্তায় মিছিল বের করে। তাদের সঙ্গে সাধারন জনগণও যোগ দেয়।

Bangladesh and World Identity Assignment Answer

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী এই মাতৃভাষা আন্দোলনের মিছিলে মিলেটারীরা গুলি ছুঁড়ে ছাত্রদের হত্যা করার জন্য। এতে মারা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রফিক, শফিক,বরকতসহ জব্বার ও সালামের মত আরো অনেক জনগণ। সেই শহীদদের স্মরনে তৈরী হয় প্রথম শহীদ মিনার। ছাত্র-ছাত্রীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের বরণ করে। কিন্তু পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর এটা পছন্দ হলো না। পশ্চিম পাকিস্তানের সরকার সেই শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে ফেলে। আবার ছাত্ররা রাস্তায় মিছিল বের করে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য। মিলেটারীরা তাদের গ্রেফতার করে জেলে নিয়ে যায়। এভাবে ৫৪, ৫৬, ৫৮, ৬০ সাল চলে যায়। এর মাঝে দফায় দফায় পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের লড়াই চলে।

নয় মাস তুমুল লড়াইয়ের পর যুদ্ধ শেষ হয়। ১৪ই ডিসেম্বর পাকিস্তানের মিলেটারীদের প্রধান সেনাপতি নিয়াজী যুদ্ধ বিরতির দলিলে সই করে। পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীরা হার মানে বাঙালীর কাছে। ১৬ই ডিসেম্বর বাঙালীরা বিজয়ের মুখ দেখল। তারা পেল একটি স্বাধীন ভূ-খন্ড, যার নাম বাংলাদেশ এবং মাতৃভাষা বাংলা রাষ্ট্রীয়ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেল।  ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর এই বিরোধিতা আরো বেশী কার্যকর হতে থাকে। যেমন- দেশ স্বাধীন হবার পর বাংলাদেশের রেডিও অফিসের মূল ভবনের নামকরণ করা হয় – বাংলদেশ বেতার। কিন্তু ১৯৭৬ সালে নাম পাল্টে নামকরণ করা হয় -রেডিও বাংলাদেশ।

এমন আরো কিছু সরকারী ভবনেরও নাম পরিবর্তন করা হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝেও এই পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। তারা বাংলা ভাষার চেয়ে অন্য ভাষার প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ে। নিজ দেশের মাতৃভাষা রেখে তারা ইংরেজী ভাষার প্রতি বেশী আকৃষ্ট হয়। তিনি অনেক ছাত্র-ছাত্রীদের বুঝিয়ে দেন যে, নিজ মাতৃভাষা হলো সবার উর্ধ্বে। অন্য দেশের ভাষা শিখতে চাইলেও নিজ দেশের মাতৃভাষাকেই প্রাধান্য দিতে হবে।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট ১০০% সমাধান

১৯৬৬ সালের ছয় দফাঃ ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে চৌধুরী মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে কাউন্সিল মুসলিম লীগের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আফজালের সভাপতিত্বে বিরোধী দলের সম্মেলন শুরু হয়। সাবজেক্ট কমিটির এই সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি(Six-point demand)পেশ করেন। প্রস্তাব গৃহীত হয় না। পূর্ব বাংলার ফরিদ আহমদও প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম পাকিস্তানের কয়েকটি পত্রিকা এ দাবি সম্পর্কে উল্লেখ করে বলে যে পাকিস্তানের দুটি অংশ বিচ্ছিন্ন করার জন্যই ছয় দফা দাবি আনা হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সংবাদ সম্মেলন করে এর জবাব দেন। ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। বিমানবন্দরেই তিনি সাংবাদিকদের সামনে ছয় দফা সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরেন।

ছয় দফা দাবিতে পাকিস্তানের প্রতিটি প্রদেশকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের অন্যান্য রাজনৈতিক দল এ দাবি গ্রহণ বা আলোচনা করতেও রাজি হয়নি। বঙ্গবন্ধু ফিরে আসেন ঢাকায়।আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটিতে ছয় দফা দাবি পাস করা হয়। আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে এ দাবি গ্রহণ করা হয়। ব্যাপকভাবে এ দাবি প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত হয় দলের নেতৃবৃন্দ পুরো পূর্ব পাকিস্তান সফর করে জনগণের কাছে এ দাবি তুলে ধরবেন।

ছয় দফা দাবির ওপর বঙ্গবন্ধুর লেখা একটি পুস্তিকা দলের সাধারণ সম্পাদকের নামে প্রকাশ করা হয়। লিফলেট, প্যাম্ফলেট, পোস্টার ইত্যাদির মাধ্যমেও এ দাবিনামা জনগণের কাছে তুলে ধরা হয়।পাকিস্তানি শাসকদের দমন–পীড়ন-গ্রেপ্তার সমানতালে বাড়তে থাকে।এর প্রতিবাদে সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হন। ৬ দফা আন্দোলনের সঙ্গে পূর্ব বাংলার সর্বস্তরের মানুষ  রিকশাওয়ালা, স্কুটারওয়ালা, কলকারখানার শ্রমিক, বাস-ট্রাক-বেবিট্যাক্সিচালক, ভ্যানচালক, খুদে দোকানদার, মুটে-মজুর, দিনমজুর—সবাই এই আন্দোলনে শরিক হয়েছিলেন ।

নবম শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

নিজস্ব মতামতঃ উল্লেখিত ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৯৭০ সালের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের স্বাধীনতায় অধিকতর প্রেরনা যুগিয়েছিলেন । তার কারণ নিচে দেওয়া হলোঃ

১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ‍নিরঙ্কুস সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে । ফলে ৬ দফা এবং ১১ দফার জনগনের আকুন্ঠ সমর্থন এর বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় । বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক বিজয় ঘটে । অন্যদিকে, পাকিস্তানের সরকার ও স্বার্থেন্বেষী মহলের জন্য এটি ছিল বিরাট পরাজয় । তারা বাঙ্গালির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্র করতে থাকে । পূর্ব পাকিস্তানের জনগন পশ্চিম পাকিস্তানের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে দূঢ়ভাবে অবস্থান গ্রহন করেন ।  ১৯৭১ সালের স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রের অভ্যূদ্বয়ের পিছনে নির্বাচনের অপরিসীম গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠে ।

৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

৬ষ্ঠ শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

৭ম শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

৮ম শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

৮ম শ্রেণির বাংলা অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

৮ম শ্রেণির হিন্দুধর্ম অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

৮ম শ্রেণির ইসলাম শিক্ষা অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

৯ম শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

৯ম শ্রেণির বিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

৯ম শ্রেণির বাংলা অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

৯ম শ্রেণির হিন্দুধর্ম অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

৯ম শ্রেণির ইসলাম শিক্ষা অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

 

About ApplyForJob

Check Also

মহাদেশ ও মহাসাগর কয়টি ও কি কি

মহাদেশ ও মহাসাগর কয়টি ও কি কি

মহাদেশ ও মহাসাগর কয়টি ও কি কি মহাদেশ গুলোর নাম: আমরা পৃথিবীতে বসবাস করি, এই …

Leave a Reply