মহাদেশ ও মহাসাগর কয়টি ও কি কি

মহাদেশ ও মহাসাগর কয়টি ও কি কি

মহাদেশ গুলোর নাম: আমরা পৃথিবীতে বসবাস করি, এই পৃথিবী সম্পর্কে আমরা সবাই ছোট্ট রয়স থেকে পড়ে আসছি পৃথিবী ঠিক কমলা লেবুর মত দেখতে। এই পৃথিবীতে তিন ভাগ জল আর এক ভাগ স্থল আছে। আর এই স্থল সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে প্রশ্ন উঠে আসে মহাদেশ কয়টি ও কি কি? ও মহাদেশ গুলোর নাম ? ঠিক একই ভাবে প্রশ্ন আসে মহাসাগর কয়টি ও কি কি? এবং এই মহাসাগরের নাম গুলোই বা কি? আমাদের এই পৃথিবীতে মোট সাতটি মহাদেশ রয়েছে। এই ৭ মহাদেশের নাম হলো-
  • এশিয়া মহাদেশ
  • আফ্রিকা মহাদেশ
  • ইউরোপ মহাদেশ
  • উত্তর আমেরিকা মহাদেশ
  • দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ
  • ওশিয়ানিয়া মহাদেশ এবং
  • আন্টার্কটিকা মহাদেশ ।

মহাসাগর কয়টি ও কি কি

আর মহাসাগর রয়েছে পাঁচটি। এগুলো হলো-
  • প্রশান্ত মহাসাগর
  • আটলান্টিক মহাসাগর
  • ভারত মহাসাগর
  • উত্তর মহাসাগর ও
  • দক্ষিণ মহাসাগর ।
এখানে একটি খটকা থাকে, এটি পরিষ্কার করো সাগর আর মহাসাগর কিন্তু এক নয়। তেমনি আবার উপসাগর ও এদের থেকে আলাদা। মহাসাগর (Ocean) : পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর অবস্থিত বিশাল আকৃতির জলের আধারকে মহাসাগর বলে। যেমন – প্রশান্ত মহাসাগর। সাগর (Sea) : স্বল্প আয়তনবিশিষ্ট উন্মুক্ত জল রাশিকে সাগর বলে। এগুলো মহাসাগর অপেক্ষা ছোট। যেমন- আরব সাগর। উপসাগর (Bay or Gulf): তিনদিকে স্থল দ্বারা বেষ্টিত এমন জল রাশিকে উপসাগর বলে। যেমন- বঙ্গোপসাগর। মহাদেশ কয়টি এটি সম্পর্কে তো আমরা জেনে নিলাম, এবার নিম্নে এই মহাদেশ গুলো সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় জেনে নেই আমরা।

মহাদেশ কয়টি ও কি কি

এশিয়া মহাদেশ :-

পৃথিবীর স্থলভাগের তিনভাগের একভাগ জুড়ে রয়েছে বৃহত্তম, জনবহুল মহাদেশ এশিয়া। ভাবলে অবাক হবে, চারটে ইউরোপ অথবা দেড়খানা আফ্রিকার সমান আমাদের এই মহাদেশ এতই বিশাল যে পশ্চিম প্রান্তে যখন সূর্য ওঠে, পূর্বপ্রান্তে তখন সূর্যাস্তের সময় হয়ে যায়। সুউচ্চ পর্বতশ্রেণি,বিরাট মালভূমি, বিস্তীর্ণ সমভূমি আর ঊর্বর নদী উপত্যকার মহাদেশ এশিয়ায় এমন কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আছে, যা অন্য কোনো মহাদেশে নেই। তাই এশিয়াকে ‘চরম বৈশিষ্ট্যের মহাদেশ’ (Continent of Extremes) বলা হয়।

এশিয়া মহাদেশ :-

পৃথিবীর স্থলভাগের তিনভাগের একভাগ জুড়ে রয়েছে বৃহত্তম, জনবহুল মহাদেশ এশিয়া। ভাবলে অবাক হবে, চারটে ইউরোপ অথবা দেড়খানা আফ্রিকার সমান আমাদের এই মহাদেশ এতই বিশাল যে পশ্চিম প্রান্তে যখন সূর্য ওঠে, পূর্বপ্রান্তে তখন সূর্যাস্তের সময় হয়ে যায়। সুউচ্চ পর্বতশ্রেণি,বিরাট মালভূমি, বিস্তীর্ণ সমভূমি আর ঊর্বর নদী উপত্যকার মহাদেশ এশিয়ায় এমন কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আছে, যা অন্য কোনো মহাদেশে নেই। তাই এশিয়াকে ‘চরম বৈশিষ্ট্যের মহাদেশ’ (Continent of Extremes) বলা হয়। এশিয়া মহাদেশের আয়তন ৪ কোটি ৫০ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৯২ বর্গকিলোমিটার। পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় এক তৃতীয়াংশের কাছাকাছি এশিয়া মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত। এশিয়া মহাদেশের সর্বোচ্চ স্থান মাউন্ট এভারেষ্ট (৮,৮৫০ মিটার)।এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশের মাঝ বরাবর ইউরাল পর্বতমালা অবস্থিত।এই ৫০টি দেশের মধ্যে বৃহত্তম দেশ চীন (৯৫,৬১,০০০ বর্গকিলোমিটার) এবং মালদ্বীপ ক্ষুদ্রতম দেশ (২৯৮ বর্গকিলোমিটার)। এশিয়ার দীর্ঘতম নদী ইয়াংসিকিয়াং (৫,৯৮০ কিলোমিটার) এশিয়া মহাদেশের জনসংখ্যা ৪,৪৩৭ মিলিয়ন (পপুলেশন রেফারেন্স ব্যুরো-পিআরবি, ২০১৬)।

আফ্রিকা মহাদেশ :-

আয়তনে এবং জনসংখ্যায় পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ আফ্রিকা, একই সঙ্গে পৃথিবীর উত্তর-দক্ষিণ এবং পূর্ব-পশ্চিম গোলার্ধে অবস্থিত। নিরক্ষরেখা, কর্কটক্রান্তিরেখা, মকরক্রান্তিরেখা এবং মূলমধ্যরেখা-চারটিই আফ্রিকার ওপর দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে। পূর্ব আফ্রিকাতেই পৃথিবীতে প্রথম মানুষের উদ্ভব হয়েছিল। ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত আফ্রিকার বহু দেশ ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার কিছু দেশের উপনিবেশ ছিল। ইউরোপ মহাদেশ আর আফ্রিকা মহাদেশের মাঝে আফ্রিকার অবস্থান ও সীমা মহাসাগর আছে জিব্রাল্টার প্রণালী। এশিয়া মহাদেশ আর আফ্রিকার মাঝে আছে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল। দুটি বড়ো জলভাগ যেমন সাগর বা মহাসাগর, যুক্ত হয় যে সংকীর্ণ জলভাগ দ্বারা তা হলো প্রণালী। মহাদেশটির সর্বোচ্চ স্থান কিলিমাঞ্জারো (৫,৯৬৩ মিটার)। আয়তনে বৃহত্তম দেশ সুদান আফ্রিকা মহাদেশে এবং সবচেয়ে ছোট দেশ মিচেলিস। এ মহাদেশের দীর্ঘতম নদী নীলনদ। আফ্রিকা এবং ইউরোপ মহাদেশকে পৃথক করেছে ভূ-মধ্যসাগর। এ মহাদেশে মোট জনসংখ্যা ১,২০৩ মিলিয়ন (২০১৬)।

ইউরোপ মহাদেশ :-

পৃথিবীর ষষ্ঠ বৃহত্তম মহাদেশ ইউরোপ, জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য-সংস্কৃতি, কৃষি-শিল্প, প্রযুক্তি-গবেষণায় অত্যস্ত উন্নত এবং সমৃদ্ধ। যোড়শ শতাব্দীতে এই মহাদেশের উৎসাহী নাবিকদের ভৌগোলিক অভিযানের কারণেই পৃথিবীর অজানা, অচেনা অনেক দেশ মহাদেশের সন্ধান পাওয়া যায়। শিল্প বিপ্লব এবং আধুনিক যন্ত্র নির্ভর সভ্যতার বিকাশ এই মহাদেশেই প্রথম হয়েছিল। এই মহাদেশের বেশ কিছু দেশ (ইংল্যান্ড, পোর্তুগাল, স্পেন, হল্যান্ড, ফ্রান্স) থেকে সারা পৃথিবীতে বাণিজ্য-অভিযান হয়েছিল। ফলে এক সময়ে পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশ এই দেশগুলির উপনিবেশ ছিল। এ মহাদেশের সর্বোচ্চ স্থান মাউন্ট এলবুর্জ (৫,৬৩৩ মিটার)। ইউরোপ মহাদেশ ৫০টি দেশ নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে আয়তনে বৃহৎ রাশিয়া এবং ক্ষুদ্রতম ভ্যাটিকান । রাশিয়া কোন মহাদেশে অবস্থিত ? এশিয়া এবং ইউরোপ উভয় মহাদেশে রাশিয়ার অবস্থান হলেও এটি ইউরোপ মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত। এ মহাদেশের দীর্ঘতম নদী ভলগা। এ মহাদেশে বসবাসকারী জনসংখ্যা ৭৪০ মিলিয়ন (পিআরবি, ২০১৬)। এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশকে একত্রে ইউরেশিয়া বলা হয়।

উত্তর আমেরিকা মহাদেশ :-

আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে উত্তর আমেরিকা মহাদেশটির কথা মানুষের কাছে অজানা ছিল। ১৪০০ এবং ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপীয় অধিবাসীগণ নতুন নতুন দেশ আবিষ্কারের নেশায় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান শুরু করে। ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দে ইতালির নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাস ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করতে গিয়ে বর্তমান উত্তর আমেরিকা মহাদেশের পূর্বদিকের দ্বীপপুঞ্জে উপস্থিত হয়ে ওই দ্বীপগুলিকেই ‘ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ’ বলে মনে করেন। পরবর্তীকালে ১৫০১ খ্রিস্টাব্দে আমেরিগো ভেসপুচি নামে আর এক পোর্তুগিজ নাবিক কলম্বাসের পথ অনুসরণ করে। উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মূল ভূখণ্ডে এসে উপস্থিত হন। তিনি তখন অনুভব করেন। এটা ভারতবর্ষ নয়, এটা একটা অজানা ভূখণ্ড। তিনি তার নিজের নাম অনুসারেই এই মহাদেশের নামকরণ করেন আমেরিকা মহাদেশ। পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মহাদেশ উত্তর আমেরিকা। এটি দেখতে ত্রিভুজাকৃতির। মিসিসিপি-মিসৌরি এ মহাদেশের দীর্ঘতম নদী । আয়তনে সবচেয়ে বড় দেশ কানাডা এবং সবচেয়ে ছোট বার্বাডোস। এ মহাদেশের মোট জনসংখ্যা ৩৬০ মিলিয়ন (পিআরবি, ২০১৬)।

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ :-

আয়তনে চতুর্থ বৃহত্তম মহাদেশ দক্ষিণ আমেরিকা। এ মহাদেশ দেখতে ত্রিকোণোকৃতির। এ মহাদেশের উত্তরে উত্তর ক্যারিবিয়ান সাগর ও উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর, দক্ষিণে দক্ষিণ মহাসাগর, পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগর এবং পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর অবস্থিত। এ মহাদেশের সর্বোচ্চ স্থান আকাঙ্কাগুয়া। এর মধ্যে আয়তনে বৃহত্তম ব্রাজিল এবং ক্ষুদ্রতম সুরিনাম। এ মহাদেশে অনেকগুলো দ্বীপ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ফকল্যান্ড। দক্ষিণ আমেরিকার দীর্ঘতম এবং পৃথিবীর প্রশস্ততম নদী আমাজান। এ মহাদেশের অন্তর্গত ইকুয়েডরকে ‘চির বসন্তের দেশ বলা হয়। মহাদেশটিতে বসবাসকারী মোট জনসংখ্যা ৪১৯ মিলিয়ন (পিআরবি, ২০১৬)।

অস্ট্রেলিয়া / ওশেনিয়া মহাদেশ :-

অস্ট্রেলিয়া আয়তনে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মহাদেশ। এটি প্রায় ৮৫ লক্ষ ৪ হাজার ২৪১ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এ মহাদেশের সর্বোচ্চ স্থান পুঁসাক জায়া। এই মহাদেশে আয়তনে বৃহত্তম অস্ট্রেলিয়া এবং ক্ষুদ্রতম নাউরু। অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘতম নদী মারে ডার্লিং। এ মহাদেশের মোট জনসংখ্যা ৪০ মিলিয়ন (পিআরবি, ২০১৬)।

আন্টার্কটিকা মহাদেশ :-

আন্টার্কটিকা মহাদেশ আয়তনে বিশ্বে পঞ্চম। এর মোট আয়তন ১ কোটি ৩৩ লক্ষ ৪০ হাজার বর্গকিলোমিটার। মহাদেশটি পৃথিবীর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এবং দক্ষিণ মেরুকে কেন্দ্র করে প্রায় বৃত্তাকারে অবস্থিত। এ মহাদেশের চতুর্দিকে দক্ষিণ মহাসাগর অবস্থিত। মহাদেশটি সারাবছর বরফে আচ্ছন্ন থাকে বলে মনুষ্য বসবাসের অনুপযোগী। শীতলতম এই মহাদেশে কোনো দেশ নেই। এখানকার উল্লেখযোগ্য প্রাণি অ্যালবাট্রস, পেঙ্গুইন, সীল ইত্যাদি। এছাড়া এ মহাদেশে মস ও শৈবাল জাতীয় উদ্ভিদ জন্মে।

About ApplyForJob

Check Also

বিশ্বের সকল দেশের নাম রাজধানী এবং মুদ্রার নাম

বিশ্বের সকল দেশের রাজধানীর নাম এবং মুদ্রার নাম

বিশ্বের সকল দেশের রাজধানীর নাম এবং মুদ্রার নাম বিশ্বের সকল দেশের রাজধানীর নাম এবং মুদ্রার …